সিপিডির বাজেট সুপারিশ: অপ্রয়োজনীয় অনুৎপাদনশীল ব্যয় কমিয়ে, অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি করবে এমন উৎপাদনশীল খাত নিরুপণ করে বরাদ্দ বাড়ানো। রাজস্ব আয় বাড়াতে করফাকি ও অর্থপাচার বন্ধ করা। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিতে দরিদ্রদের হাতে নগদ সহায়তা পৌঁছানো। ব্যাপক কর্মংস্থান তৈরির উদ্যোগ ও ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রণোদনা নিশ্চিত করা।

 

করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্বঅর্থনীতি। বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়নি বাংলাদেশও। অঘোষিত লকডাউনে বন্ধ আছে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। যার প্রভাব পড়ছে রাজস্ব আহরণ, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়ে। এমন পরিস্থিতিতে আসছে নতুন অর্থবছরের বাজেট। বাজেটকে সামনে রেখে প্রতি বারের মত এবারো সময়োচিত সুপারিশ তুলে ধরেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সিপিডি।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, করোনা এবং করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক উত্তরণই হবে নতুন বাজেটের মূল লক্ষ্য। এজন্য স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষিখাতে ভর্তুকি বাড়িয়ে তার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর লক্ষ্যে দরিদ্রদের নগদ সহায়তা দেয়া এবং বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীদেরও প্রণোদনা নিশ্চিত করা। আয় বাড়াতে করফাকি ও অর্থপাচার বন্ধ করা এবং সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে এনে অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি করে এমন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো। এছাড়া কর্মসংস্থান নির্ভর শিল্পের বিকাশে সহায়তার সুপারিশ করেছে সিপিডি।

বাজেটের দুটি অংশ, আয় ও ব্যয়। এই দুইয়ে মাঝে আছে ঘাটতি। এবারে আয়ের ক্ষেত্রে যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে তেমনি ব্যয়েও সরকারকে মিতব্যয়ী হতে হবে। আর ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎসের চেয়ে বৈদেশিক উৎসের উপর নির্ভরতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।

রাজস্ব আয়: এক্ষেত্রে সিপিরি সুপারিশগুলো হলো,

  • বাস্তব সম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ: বাস্তব সম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা যদি বাস্তবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় তাহলে সরকারের ব্যয়ের পরিকল্পনাও সঠিক ভাবে করা যায় না।

 

  • করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো: অর্থনীতির গতি ফিরাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে এবারের বাজেটে। এ লক্ষ্যে দরিদ্রদের সহায়তার পাশাপাশি মধ্যবিত্তের হাতে অর্থের যোগান ধরে রাখতে ব্যক্তি করমুক্ত আয়ের সীমা ২.৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩.৫ লাখ টাকা করা এবং এই সীমা আগামী দুই অর্থবছর অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে সিপিডি।

 

  • করফাঁকি বন্ধ: অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য করের হার বাড়ানোর সুযোগ নতুন বাজেটে হবে না বলেই মনে করে সিপিডি। তাই কর ফাকি কঠোর ভাবে বন্ধ করতে হবে। বাড়াতে হবে রাজস্ব বোর্ডের মনিটরিং ব্যবস্থা।

 

  • কর প্রণোদনা: কর প্রণোদনা দেয়ার ক্ষেত্রে সাবধানী হওয়ার পরামর্শ সিপিডি’র। প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, অনেক খাতই নানা ভাবে দীর্ঘ সময় ধরে প্রণোদনা পেয়ে আসছে। করোনার এই সময়ে দেখতে হবে, আসলেই এসব খাতের কোনগুলো প্রণোদনার যোগ্য।

 

  • করপোরেট কর: করপোরেট করহার কমানোর ক্ষেত্রে সাবধানী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি বলেছে, সবচেয়ে ভালো হয় আসছে বাজেটে করপোরেট করহার না কমানো।

 

  • সংস্কার অব্যাহত রাখা: চলমান সংস্কার কার্যক্রম গুলো অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়েছে সিপিডি। বিশেষ করে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যেসব কার্যক্রম চলছিল তা এগিয়ে নিতে হবে। ভ্যাট আদায়ের জন্য চাহিদা অনুযায়ী ইলেকট্রনিক ফিসকেল ডিভাইস -ইএফডি আমদানিতে সময়ক্ষেপণ না করার পরামর্শ।

 

  • নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো: নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করতে হবে, যাতে কোন পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে না যায়। সাধারণ মানুষের ক্ষয় ক্ষমতার বাইরে চলে না যায়। এ সংশ্লিষ্টপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের কর কমিয়ে আনা কিংবা সম্ভব হলে যতটুকু পারা যায় ততটুকু ছাড় দিতে হবে।

 

 

  • পরোক্ষ কর নির্ভরতা কমানো: রাজস্ব আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীলতা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আয় হ্রাসের বিবেচনায় নিয়ে এই নির্ভরতা কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। প্রত্যক্ষ করের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সম্পদ কর আরোপের সুপারিশ প্রতিষ্ঠানটির।

 

  • কলোটাকা ও অর্থপাচার: কালো টাকা সাদা করার কোন সুযোগ আসছে বাজেটে দেয়া উচিত হবে না বলে মনে করে সিপিডি। পাশাপাশি অর্থপাচারের সমস্ত পথ বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সিপিডি’র সম্মাননীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, গেল ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। সরকার করোনা মোকাবেলায় যে এক লাখ কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, পাচারের পরিমাণ তার ৫ গুণ। এই অর্থ যদি দেশে থাকতো তাহলে সরকারকে অর্থের সংস্থান নিয়ে অতটা ভাবতে হতো না।

 

ঘাটতি অর্থায়ন:

ঘাটতি অর্থায়নের ক্ষেত্রে সিপিডি বলেছে, অর্থনৈতিক কর্মকা- হ্রাস পাওয়ায় রাজস্ব কমবে যার প্রভাবে বাড়বে বাজেট ঘাটতি। আসছে বাজেটে হয়তো এই ঘাটতি জিডিপি’র ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখা যাবে না। এটি এই মাত্রায় ধরেই রাখতে হবে এমন কোন মনোভাব যেন সরকারের মধ্যে কাজ না করে। অর্থনীতির এমন বিপর্যয়ে এই হার বাড়াটাই স্বাভাবিক। ঘাটতি অর্থায়নের ক্ষেত্রে সিপিডি’র সুপারিশ গুলো হচ্ছে-

  • বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো: ঘাটতি অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারের ঋণের বোঝা যেন বেড়ে না যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। বাজটে ঘাটতি মেটাতে যত বেশি সম্ভব বিদেশি সহায়তা ও ঋণের উপর নির্ভরশীলতা বাড়তে হবে। পাশাপাশি পাইপ লাইনে থাকা অর্থের ছাড় বাড়ানোর পরামর্শ সিপিডি’র।

 

  • বিপিসির মুনাফা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমে যাওয়ায় যে সুযোগ তৈরি হচ্ছে তার সুফল কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। আগামী এক বছর তেলের দাম খুব একটা বাড়বে না। তাই পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-বিপিসি’র উচিত হবে যতটুকু পারা যায় তেল কিনে রাখা। যেহেতু অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম কমানো হবে না, তাই বিপিসি প্রচুর মনুফা করতে পারবে। এই মুনাফা দিয়েও সরকার ঘাটতি অর্থায়ন মিটাতে পারে। পাশাপাশি দরিদ্রদের নগদ সহায়তার ক্ষেত্রে অর্থের যোগানও এখান থেকে আসতে পারে।

 

  • সরকারি ব্যয় সংকোচন: অনুন্নয়ন খাতে বাজেটে যে ব্যয় ধরা হয় তার প্রায় পুরোটাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয়। করোনাকালে বিশে^র অনেক দেশ এমনকি প্রতিবেশী ভারতও সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দুর্যোগে বাংলাদেশকেও একই পথে হাটার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, উচ্চপদস্থ একজন সরকারি কর্মকর্তার গাড়ির পিছনে সরকারের যে ব্যয় হয় তা এখন কমিয়ে আনা যায়। এছাড়া অফিসগুলোতে কাগজের ব্যবহার, ইউটিলিটি বিল, আপ্যায়ন ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক খাতে সরকারি ব্যয় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা যায় বলে মনে করে সিপিডি।

 

  • মূলধন যোগান না দেয়া: সরকারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে বাজেটে মূলধন যোগান দেয়া হয়। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয় কমাতে পারলে এর প্রয়োজন পড়ে না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসছে বাজেটে এসব প্রতিষ্ঠানকে মূলধন যোগান বন্ধ করার পরামর্শ সিপিডি’র।

 

  • প্রশ্নবিদ্ধ বিনিয়োগ: এছাড়া প্রশ্ন বিদ্ধ বিনিয়োগ না করার আহবান ওঠে এসেছে সিপিডির সুপারিশে। বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে পুজিবাজার কিংবা করপোরেশনের সম্পদ কেনায় বিনিয়োগ করার কোন প্রয়োজন নেই।

 

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন: সিপিডি’র সুপারিশ হলো এক্ষেত্রে, খুবই মনোযোগ দিয়ে প্রকল্প বাছাই করতে হবে। স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক সুরক্ষার সংক্রান্ত এবং ব্যাপকহারে কর্মসংস্থান তৈরি করবে এমন প্রকল্প বেশি বেশি বাছাই করতে হবে। যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষ দিকে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। অন্যদিকে নতুন শুরু করতে যাওয়া প্রকল্পগুলো খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ না হলে সেগুলো অনুমোদন না দেয়ার দাবী জানিয়েছে সিপিডি।

স্বাস্থ্যখাত: আসছে বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত¦ দেয়ার আহবান জানিয়েছে সিপিডি। জরুরী প্রয়োজনীয় খরচ যেন অর্থ বরাদ্দের অভাবে থেমে না থাকে সেজন্য যথেষ্ট বরাদ্দ রাখার কথা বলেছে প্রতিষ্ঠানটি। অক্সিজেন, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, চিকিৎসকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম ইত্যাদি কেনার ক্ষেত্রে যেন অর্থের সংকট না হয়। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সরঞ্জামাদি আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের কর অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেছে সিপিডি। খুচরা পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতির কথাও বলা হয়েছে। বেসরকারিখাতের যেসব হাসপাতাল করোনা চিকিৎসায় ভূমিকা রাখবে, সেগুলোর জন্য প্রণোদনা দেয়ার সুপারিশ করেছে সিপিডি। এক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোকে কর ছাড় দেয়া যেতে পারে বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।

কৃষিখাত: করোনার কারণে যেহেতু সেবাখাত ঘুর দাড়াতে সময় নিবে তাই কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য কৃষিখাতের উপর আসছে বাজেটে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছে সিপিডি। এ খাতে বরাদ্দ যেমন বাড়াতে হবে তেমনি ভর্তুকির অর্থ যেন পুরোটা এবং সঠিকভাবে ব্যবহার হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। এ বিষয়ে সিপিডি’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, গেল কয়েক অর্থবছর থেকে কৃষিখাতে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ৪/৫ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করা যাচ্ছে না। এই বছর কৃষিখাতের ভর্তুকির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। বাজেটের ৩ শতাংশ কৃষিখাতে বরাদ্দ রাখতে হবে। এছাড়া খাদ্যমজুদ বাড়াতে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এ খাতে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরামর্শ সিপিডি’র।

সামাজিক সুরক্ষা: নিম্ন আয়ের মানুষকে নগদ প্রণোদনা বা খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। সরকার ৫০ লাখ পরিবারকে ২.৫ হাজার টাকা করে দিবে। এর পরিমাণ আরো বাড়ানোর দাবী জানিয়েছে সিপিডি বলেছেন, অন্তত দুই মাস দরিদ্র পরিবার গুলোকে ৮ হাজার টাকা করে দেয়া উচিত। এছাড়া নিত্যপণ্যের দাম যে হঠাৎ করে বেড়ে না যায় সেজন্য কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা নিতে হবে।

এসএমই: অর্থনীতিকে ঘুরে দাড়ানোর জন্য সরকার যে প্রণোদনা দিচ্ছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এসএমই খাতকে। এখাতকে সহায়তার লক্ষ্যে টার্নওভার ট্যাক্সের সীমা ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছে সিপিডি। বড় শিল্প গ্রুপ গুলো তাদের নিজস্ব সক্ষমতা ও দক্ষতার ফলে নিজেদের প্রণোদনাটুকু বুঝে নিতে পারবে কিন্তু এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। তাদের প্রণোদনার অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত পৌছে দেয়ার দাবী জানিয়েছে সিপিডি।

সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা: প্রসঙ্গে সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই প্রণোদনায় ৮০ শতাংশ টাকা ব্যাংকগুলোকে জোগান দিতে হবে। খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত ব্যাংকিংখাত এমনিতেই দুর্বল। সেক্ষেত্রে টাকার জোগান কিভাবে আসবে তা নিয়ে সন্দিহান ফাহমিদা খাতুন। এছাড়া প্রণোদনা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বাছাই অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে। আবার ইচ্ছাকৃত প্রভাবশালী ঋণ খেলাপিরা যাতে এই সুবিধা নিতে না পারে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

রেমিটেন্স: বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি প্রবাসীদের পাঠানো আয় বা রেমিটেন্স। করোনা ধাক্কায় রেমিটেন্স আয় কমতে শুরু করেছে। এদিকে ইউরোপ, আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বিদেশি কর্মীদের বের করে দেয়ার চেষ্টা করছে তারা। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ঐসব দেশকে অনুরোধ করছে তাদের কর্মীদের ফেরত না পাঠাতে। বাংলাদেশকেও এমন উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিয়ে সিপিডি বলছে, অনেক দেশ একই সাথে চেষ্টা চালানোয় এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়তে হবে।

এদিকে কিছু দেশ তাদের প্রবাসীদের না পাঠাতে চাকরিদাতা দেশগুলোকে বিরত রাখতে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে অনুরোধ করেছে। বাংলাদেশও জাতিসংঘে অনুরোধপত্র পাঠাতে পারে বলে মনে করে সিপিডি। এছাড়া জনশক্তি রপ্তানিকারক এশিয়ার দেশগুলোর মোর্চা মাইগ্রেন্ট ফোরাম ইন এশিয়ার উদ্যোগে প্রণিত কলম্বো প্রসেস এর সহায়তা নিতে বাংলাদেশ।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.