europe-lockdown

ইতালির রাজধানী রোমে বসবাস করেন স্টিফানো মিলানো। ৪০ বছর বয়সী এ নারীকে গতকাল পথের ধারে বেশ উত্ফুল্ল দেখা গেল। টানা দেড় মাস ঘরবন্দি থাকার পর বাজার করতে বেরিয়েছেন তিনি। শুধু স্টিফানো বেরিয়েছেন এমনটা নয়, বরং রোমের সুপারশপগুলোয় রীতিমতো ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। এর কারণ নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর ধাক্কা সামলে চলমান লকডাউন কিছুটা শিথিল করেছে ইতালি। একই চিত্র ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশে। প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ আগের তুলনায় কিছুটা কমে আসায় অর্থনীতি বাঁচাতে দোকানপাট ও কারখানা খোলা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনগণকে ঘরের বাইরে আসার অনুমতি দিচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো। এমন এক সময় ইউরোপের দেশগুলো এ উদ্যোগ নিচ্ছে, যখন প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের বৈশ্বিক সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। খবর এএফপি।

নভেল করোনাভাইরাসের সূচনা চীনে হলেও ফেব্রুয়ারি-মার্চে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, ব্রিটেনসহ ইউরোপের দেশগুলো মহামারীর ধাক্কায় রীতিমতো টালমাটাল হয়ে পড়ে। মানুষের জীবন বাঁচাতে টানা লকডাউনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে এসব দেশ। তবে লকডাউনে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো ইউরোপের অর্থনীতি। ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার পর অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে ইতালি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পতন ঘটেছে ফরাসি অর্থনীতিতে।

যদিও ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। এর পরও অর্থনীতি বাঁচাতে লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসছে ইউরোপ। গতকাল থেকে ইতালিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প ও কারখানাগুলোয় কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। রেস্টুরেন্ট খুলেছে। তবে গ্রাহকদের সেখানে বসে খাওয়ার অনুমতি নেই। তারা বাসায় খাবার কিনে নিয়ে যেতে পারবেন। তবে বার ও আইসক্রিম পারলার এখনো বন্ধ রয়েছে। জনগণকে গণপরিবহন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। জনসমাগমে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

রোমের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে স্টিফানো মিলানো বলেন, ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছি এজন্য বেশ উত্ফুল্ল লাগছে। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কাও কাজ করছে।

গতকাল থেকে পর্তুগালে ছোট ছোট দোকানপাট, সেলুন খুলে দেয়া হয়েছে। গণপরিবহন ও বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্পেনেও নাক ও মুখ ঢেকে রাখার শর্তে মানুষকে ঘরের বাইরে আসার অনুমতি দেয়া হয়েছে। জার্মানি, স্লোভেনিয়া, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিতে শর্তসাপেক্ষে কিছু কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কারখানা খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ফ্রান্সে ১১ মে পর্যন্ত লকডাউন চলবে। এরপর তা শিথিল করা হবে কিনা, এ বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি ইমানুয়েল মাখোঁ সরকার।

এমন এক সময় ইউরোপের দেশগুলো চলমান লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে, যখন বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ ২৬ হাজার ১৭৮। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ১১ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৫ জন। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে স্পেনে ২ লাখ ১৭ হাজার ৪৬৬ জন, ইতালিতে ২ লাখ ১০ হাজার ৭১৭ জন, যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪২ জন, ফ্রান্সে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯২৫ জন, জার্মানিতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৪৫ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বিশ্বে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৫ জন।

সূত্র: বণিক বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published.