ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বিদেশী করপোরেট উদ্যোক্তা দুবাই ইসলামিক ব্যাংক তাদের হাতে থাকা শেয়ারের অর্ধেকেরও বেশি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত বছর দুই দফায় মোট ৭০ লাখ শেয়ার বিক্রির পর এখন বিদেশী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটির হাতে ইসলামী ব্যাংকের ৬৭ লাখ ৩ হাজার ৫৪০টি শেয়ার রয়েছে, যা থেকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ৩৭ লাখ ৩ হাজার ৫৪০টি শেয়ার বিক্রি করা হবে।
প্রসঙ্গত, প্রথমার্ধে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি মুনাফা দেখিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুসারে জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ১১ পয়সা, এক বছর আগে যা ছিল ৬১ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৪ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় ইসলামী ব্যাংক। তখন ইপিএস ছিল ২ টাকা ৪৬ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ২৮ টাকা ৯৩ পয়সা।
দীর্ঘমেয়াদে ইসলামী ব্যাংকের ঋণমান ‘ডাবল এ প্লাস’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের হিসাবে, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় বেশ শক্তিশালী অবস্থানে আছে কোম্পানিটি।
১৪ কার্যদিবসে প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়ার পর ডিএসইতে গত তিন কার্যদিবসে কিছুটা কমেছে ব্যাংকটির শেয়ারদর। গতকাল সর্বশেষ ২৬ টাকায় এর শেয়ার কেনাবেচা হয়।
১৯৮৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ইসলামী ধারার প্রথম বাংলাদেশী ব্যাংকটি। বর্তমানে এর ২ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন ও ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে মোট ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি শেয়ার রয়েছে। রিজার্ভে আছে ৩ হাজার ৪৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে ৫৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৬ দশমিক ১৯, বিদেশী বিনিয়োগকারী ১৪ দশমিক ৭৬ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ২০ দশমিক ৬৮ শতাংশ শেয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.