নিও ইকোনমি বলে কোনো টার্ম অর্থনীতি শাস্ত্রে রয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে নিও স্মার্ট ইকোনমি বলে এক ধরনের অর্থনীতি বিশ্বব্যাপী আলোচনায় রয়েছে। এটি এমন একটি ব্লকচেইনভিত্তিক অর্থনীতি যেখানে বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে কেউ কাউকে চেনার দরকার নেই, কিংবা বিশ্বাস করার দরকার নেই। ব্লকচেইনের মাধ্যমে চুক্তি হবে পণ্য বিনিময়ের। দুই পক্ষের সব ধরনের সম্পদ ডিজিটাল সম্পদ হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। ফলে বাণিজ্য এবং অর্থ প্রদান হবে এক নিমিষে। কেউ চুক্তি ভঙ্গ করার সুযোগই পাবে না। আর পণ্যের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন সামনে এলে সেটি সমাধানেও দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না, সমাধান হবে ব্লকচেইনের মাধ্যমেই। বিশ্ব অর্থনীতি ধীরে ধীরে এ ধরনের ব্লকচেইনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি নিও ব্যাংকিং বলে এক ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা বাংলাদেশের মাটিতে শুরু করার কথা ঘোষণা দিয়েছে একটি বেসরকারি ব্যাংক। নিও ব্যাংকিং হচ্ছে সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক পরিবর্তিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা যেখানে ব্যাংকের কোনো শাখা থাকবে না, থাকবে না চেক বই বা জমা রশিদ। ব্যাংকিং সেবা থেকে শুরু করে সব ধরনের কেনাকাটা করা যাবে অনলাইনের মাধ্যমে। যুগের সাথে তাল মেলাতে পরিবতর্নশীল এ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ধীরে ধীরে ঝুঁকছে। আমাদের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড ও অর্থনীতিতেও নিও ব্যাংকিংয়ের মতো নিও ইকোনমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার সময় এসেছে। নিও ইকোনমি বলতে আমি এমন একটি অথনৈতিক ব্যবস্থার কথা বুঝিয়েছি যেখানে সব ক্ষেত্রেই চাই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার। প্রযুক্তির পাশাপশি সব অথনৈতিক কর্মকা-ে চাই সৃজনশীল পরিবর্তন। কারণ গতানুগতিক ধ্যান ধারণা ও ধ্রুবক পদ্ধতিতে শিল্প কারখানা পরিচালনা করে আগামীর বিশ্বে টিকে থাকা কঠিন।

বিশ্বে নানা সময়ে পরিবর্তিত অবস্থার সাথে তাল মেলাতে না পেরে অনেক প্রতিষ্ঠানকে আমরা হারিয়ে যেতে দেখেছি। এর বড় উদাহরণ হয়ে আছে কোডাকের মতো ক্যামেরা ও ফিল্ম উৎপাদনকারী বিশ্বজোড়া খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান। সনি, নোকিয়া এবং ব্ল্যাকবেরির মতো বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে এ তালিকায়। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে না পেরেই প্রতিষ্ঠানগুলো হারিয়ে গেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও নভেল করোনাভাইরাস পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তিগত একটি বড় পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী চতুর্থ শিল্প বিল্পব আসন্ন। বর্তমান মহামারী এ বিপ্লবকে আরও ত্বরান্বিত করবে, কোনো সন্দেহ নেই। এ অবস্থায় যেসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি ও পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে পারবে তারা ভালো করবে। অন্যরা হয়তো হারিয়ে যাবে নয়তো ধুঁকে ধুঁকে টিকে থাকবে। তাই এখনই সময় উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা করার যে তারা কোন ধরনের অর্থনৈতিক বাস্তবতা তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখতে চায়।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল করোনাভাইরাসের পরবর্তী অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন আসতে পারে এবং এ পরিস্থিতিতে যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নিয়ে তেমন কোনো গরজ দেখাননি। উপরন্তু এ বছরও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.২ শতাংশ প্রাক্কলন করার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে করোনা ভাইরাসের প্রভাবকে তিনি তেমন আমলেই নেননি। অথচ বেশিরভাগ শিল্প কারখানা গত তিন মাস ধরে প্রায় বন্ধ। দোকানপাটের বিক্রিতে পড়েছে ভাটা। চর্তুদিকে চাউর হচ্ছে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের খবর। অনেকে বেতনও কাটছাঁট করছেন। এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকে এভাবে সচেতন কিংবা অবচেতনে এড়িয়ে যাওয়া কতটা দূরদর্শী হলো, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। উচিত ছিল সরকারি পর্যায় থেকে অর্থনীতিতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা এতে বেসরকারি খাতে তার কিছুটা প্রভাব পড়তে পারতো।

এমনিতেই বিশ্ব অর্থনীতি ডিজিটাইজেশন বা প্রযুক্তির দিকে খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। তার উপর করোনা ভাইরাসের সামাজিক দূরত্ব নীতি এই ডিজিটাইজেশনকে ও পরিবর্তনশীলতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এ মহামারির প্রতিষেধক কিংবা ওষুধ আবিষ্কার হয়ে গেলেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা খুব সহসাই হচ্ছে না। কী ব্যাংক, কী বীমা, কী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর কী শিল্প খাত সব জায়গাতেই পরিবর্তন আনতে হবে, ভবিষ্যত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে হলে। অন্যথায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। কারণ মানুষ ধীরে ধীরে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে ধাবিত হচ্ছে, এবং এখন তা আরও ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা অনেক বেশি হওয়ায় আগামীতে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত প্রতিষ্ঠানগুলোই ভালো করবে। ইতোমধ্যে এফএমসিজি (ফাস্ট মুভিং কনজ্যুমার গুডস) কোম্পানিগুলো থেকে শুরু করে চেইন শপ এবং বিভিন্ন খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানিগুলোও এখন ভোক্তাদের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। কোম্পানিগুলো হোম ডেলিভারির মাধ্যমে মানুষের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে তাদের পণ্য। এ পরিস্থিতিগুলোর অর্থনৈতিক বিভিন্ন দিক রয়েছে। প্রথমত, মানুষ অনলাইনে পণ্য পেতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে।

কোম্পানিগুলোও সরাসরি পণ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে একটি নতুন করে সাপ্লাই চেইন গড়ে তুলেছে। দ্বিতীয়ত, ই-কমার্স ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন ভাবে উদ্ভাসিত হতে শুরু করেছে। তৃতীয়ত, ইতোমধ্যে দোকানে বসে গতানুগতিক ধ্যান ধারণার মাধ্যমে পণ্য বিক্রির পরিমাণ কমতে শুরু করেছে। এসব বিষয় প্রমাণ করে যে, কোম্পানিগুলো যদি আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাইজেশনে না যেত তাহলে গত তিন মাসে তাদের বিক্রি বন্ধ হয়ে কারখানাই বন্ধ হয়ে যেতে পারতো। এবং কিছু কিছু কারখানার ক্ষেত্রে সেটি ঘটেছেও।

করোনাজনিত মহামারী পরিবর্তিত সৃজনশীলতার আরেকটি দিক হলো সম্ভাব্য সব দিকে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা। একটি উদাহারণ দেই। করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে একটি হলো রিয়াল এস্টেট সেক্টর। কারণ, মানুষ এ ধরনের মহামারির সময়গুলোতে সাধারণত বিলাসী পণ্য ও স্থাবর সম্পত্তির পেছনে খরচ করা থেকে বিরত থাকে। আর এ পরিস্থিতিতে রং উৎপাদনকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বার্জারের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। ফলে কোম্পানিটি হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো ভিন্নমুখী পণ্য বাজারে ছেড়েছে। কোম্পানিটি বাড়ি কিংবা অফিসে গিয়ে ভাইরাস নির্মূল করার মতো স্যানিটাইজিং সার্ভিসও চালু করেছে। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো পণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমে মহামারীর সময়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা। বার্জারের উদাহরণ টেনে আনার কারণ হলো এ ধরনের একটি ঋণমুক্ত উচ্চ মুনাফামুখী প্রতিষ্ঠানও পণ্য বহুমুখীকরণ করছে। সৃজনশীলতার মাধ্যমে মহামারীর সংকটকেই তারা সম্ভাবনা হিসেবে ব্যবহার করেছে। উদ্যোক্তাদেরকে এ কাজটিই করতে হবে। বিচক্ষণ ও দূরদর্শী অনেক কোম্পানিই এ ক্রান্তিকালে তাদের পণ্য বহুমুখীকরণের দিকে যাচ্ছে। এটি সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকেই দক্ষতার সাথে করতে হবে। তবে মহামারীর এ সময়ে সব কিছুর মূলে যেন ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য না থাকে, থাকতে হবে সেবামূলক চিন্তাও। যা পরবর্তীতে মানুষের মাঝে আস্থা ও সুনাম বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

পরিবর্তিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ভালো করতে হলে নতুন নতুন সম্ভাবনাময়ী খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। আর সেটি করতে হলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সাবধানী করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের যেসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফ্যাট জমা হয়েছে সেগুলো ছেঁটে ফেলে ব্যয়ের ব্যাপারে খুব হিসেবী হতে হবে। এ ছাঁটাই বলতে শ্রমিক ছাঁটাই নয়, বরং কোম্পানির যেসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় রয়েছে সেগুলো কমিয়ে আনতে হবে। আর সুযোগ খুঁজতে হবে নতুন বিনিয়োগের।
মহামারী পরবর্তী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সৃজনীশলতা শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতেই নয় বরং সাধারণ জনগণের মধ্যেও থাকতে হবে। যখন কোম্পানিগুলো প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাবে তখন অনেক মানুষ চাকরি হারাবে। আবার অনেকক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিমাণ কমে আসবে। এই পরিবর্তিত অবস্থার সাথে খাপ খাওয়াতে হলে মানুষকে দক্ষ হতে হবে। একইসঙ্গে প্রযুক্তিতে উন্নত হবে। বিশেষ করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ব্লকচেইন এবং কোডিং সহ আগামীতে যেসব প্রযুক্তি হবে অর্থনৈতিক চালিকাকাঠি এসব বিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে এই করোনাভাইরাজনিত মহামারীর সময়টি একটি উপযুক্ত সময়, কারণ এখন মানুষ ঘরে বসে থাকায় তাদের হাতে অনেক সময়। বিশেষ করে যারা এখনও ছাত্র। দক্ষ ও প্রযুক্তিতে উন্নত হলে যে কোনো উপায়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়, সেটি পরিবর্তিত বিশ্ব অর্থনীতির একটি বাস্তবতা। প্রযুক্তি জানা থাকলে সেক্ষেত্রে অনেকে উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সার হতে পারেন। ই-কমার্স ব্যবসায় নিযুক্ত হতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সরকারের সহায়ক কারিকুলাম নীতি, এসএমই ঋণ নীতি এবং ব্যবসায়িক সহজীকরণও প্রয়োজন।

শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানই নয়, সরকারকেও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সৃজনশীল হতে হবে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় খাপ খাওয়াতে হলে। শুধু মূল সংযোজন করের মতো সহজ কিন্তু অন্যায্য কর ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থা অন্যায্য এজন্য যে ধনী গরিব সবাই এ করের আওতায় আসে। তাছাড়া অফিস নির্ভর কর ব্যবস্থার পরিবর্তে মাঠ নির্ভর কর ব্যবস্থার দিকে এগুতে হবে। এখনকার রাজস্ব ব্যবস্থা অনেকটাই এমন যেটি ক্ল্যারিকাল বা শুধু অফিসে বসে হিসাব করেই আদায় করা যায়। এতে বিদ্যমান করদাতার উপর করের চাপ বছর বছর বাড়ে। এভাবে করদাতার উপর বাড়তি কর আরোপের মাধ্যমে কর আদায় বাড়াতে চাইলে করফাঁকির প্রবণতা কিছুতেই কমবে না। বরং রাজস্ব কর্মকর্তাদেরকে ইউনয়িন পর্যায়ের করযোগ্য মানুষ খুঁজে বের করতে হবে। নইলে করোনাভাইরাস পরবর্তী অর্থনীতিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় কঠিন হয়ে পড়বে।

করোনাভাইরাজনিত মহামারির পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে কৃষি ব্যবস্থার উপর জোর দিতে হবে। কৃষি খাতে যেন কোনোভাবেই নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে তা তদারকি করতে হবে। কারণ কৃষি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমেই গ্রাম পর্যায়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। সম্ভব রপ্তানিও ত্বরান্বিত করা। তবে কৃষি ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখার স্বার্থে কৃষি যান্ত্রিকীকরণকে গুরুত্ব দিতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে যান্ত্রিকীকরণকে ত্বরান্বিত করতে। এ প্রকল্পকে কোনোভাবেই গতিহীন হতে দেওয়া যাবে না।

কূটনৈতিক দিক থেকেও সরকারকে নীতি গ্রহণ করতে হবে যেন যে কোনো মূল্যে রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি করা যায়। প্রত্যেক দেশের চাহিদা বিশ্লেষণ করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য রপ্তানি করার ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে কূটনৈতিক কোনো সমস্যা থাকলে তা দক্ষতার সাথে দূর করতে হবে। আগের বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়লেও পরবর্তীতে তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে যেখানে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তাও ভূমিকা রেখেছে। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার এ মহামারীতে পৃথিবীর সব দেশই আক্রান্ত। ফলে কারও পক্ষেই বেশি সহায়তা করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে উন্নতির পথে রয়েছে এ অবস্থায় সহায়তা পাওয়ার আশা করাও ঠিক হবে না। বরং নিজের শক্তিতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। আর তা করতে হলে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের প্রবাসী জনশক্তির সমস্যা দূর করতে হবে। এবং পাশাপাশি নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে।

পরিবর্তিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাথে খাপ খাওয়াতে সব ধরনের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে পরিবর্তন আনতে হবে প্রযুক্তির ব্যবহার ও সৃজনশীলতার সাথে। পরিবর্তন আনতে হবে মানুষের দক্ষতায়ও। পণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমে সম্ভাব্য সব দিকেই ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে হবে। এটিই হোক এবারের মহামারি উত্তর পরিবর্তিত ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি।

লেখক: আহসান হাবীব, সাংবাদিক, দ্য ডেইলি স্টার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.