জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে ‘দিন আনে দিন খায়’ খেটে খাওয়া অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে। চলমান সংকট এ দেশের নিম্নমধ্যবিত্তসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ সঞ্চয়হীন মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেছে। দারিদ্র্য আন্তর্জাতিক সীমারেখার ওপর রাখতে হলে সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকা অত্যাবশ্যক। বেশি জরুরি এ কারণে যে মন্দার ফলে কর্মসংস্থানহীনতা বেড়ে যাবে। আরো মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে। অতএব, নতুন এ ধরনের কর্মসূচির আওতায় আয় সহায়তা, বেকার ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিশু প্রতিপালন ভাতা, পেনশন ভাতা, আবাসন সুবিধা, স্বাস্থ্য ভাতা অন্তর্ভুক্তি জরুরি। শুরুতে জিডিপির প্রায় ৭ শতাংশ ব্যয় করা যেতে পারে। বহু দেশেই জিডিপির ১১ শতাংশের বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় হয়।

নগণ্য বাজেট, চিকিৎসা উপকরণ স্বল্পতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নিম্নমানের স্বাস্থ্যসেবা ও অপরিকল্পিত খরচসহ বিবিধ কারণে স্বাস্থ্য খাত হুমকির সম্মুখীন। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা আদর্শ সমাধান হতে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্রের আলোকে প্রতিটি মানুষকে জাতীয় স্বাস্থ্য কার্ড প্রদানের মাধ্যমে সর্বজনীন জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নাধীন থাকাকালে সাময়িকভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য ভাতার আওতায় আনা যেতে পারে। প্রত্যেকের জন্য পারিবারিক ডাক্তার, নার্স ও অবকাঠামোর জন্য বাড়তি ব্যয় নির্বাহে বর্তমান বরাদ্দের ন্যূনতম তিন গুণ বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে।

সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন না হওয়ায় মানসম্মত শিক্ষা সীমিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। দক্ষতা সরবরাহে বিশাল ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে। শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। চলমান উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, দক্ষতার বিকাশ ও সক্রিয় নাগরিকত্ব সৃষ্টিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলনে সরকারের জিডিপির ৫ শতাংশের মতো ব্যয় লাগবে।

কৃষির বহুমুখীকরণ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি
লকডাউনের কারণে মাঠে পড়ে আছে ফসল, বড় ক্ষতির মুখে কৃষক। এ মুহূর্তে তাদের নেই কোনো আয়, নেই সঞ্চয়ও। অনাহার-অর্ধাহারে কাটছে দিন। কৃষকদের ফসল তোলার এ সময় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার। চলতি মৌসুমে করোনার প্রাদুর্ভাবের দরুন গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শ্রমিক উদ্বৃত্ত এলাকা থেকে ঘাটতি এলাকায় শ্রমিকদের প্রবেশের সব ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া কৃষি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সঠিক নির্দেশনা থাকতে হবে। সরকারকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কিনতে হবে। সার, বীজ ও কীটনাশকে আর্থিক ভর্তুকি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর মওকুফের ব্যবস্থা নেয়াও বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি বোরোতে ক্ষতি হলে সেটা আউশে কীভাবে মেটানো যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে এখনই। এ বছর আউশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষি দপ্তরের তালিকায় থাকা কৃষক, পোলট্রি, হ্যাচারি ও ডেইরি ফার্মকে সুরক্ষিত করা দরকার। বিভিন্ন কৃষি, সমবায়, ডেইরি, হ্যাচারি, পোলট্রি, দুধ, সবজি, ফল ও বীজ উৎপাদনকারী সমিতির সদস্যদের কাজে লাগাতে হবে। খাদ্য মজুদের পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এলাকাভিত্তিক খাদ্য কিনে খাদ্য সাহায্য কর্মসূচি বা ন্যায্যমূল্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। কৃষক খাদ্য উৎপাদন করে বাজারে সঠিক দামে বিক্রি করতে না পারলে পরবর্তী ফসল উৎপাদন করতে নিরুৎসাহিত হবেন এবং উৎপাদন করার অর্থ থাকবে না। খাদ্য সংকটও দেখা দেবে।

কৃষিতে বৈচিত্র্য ঘটেনি। কোনো অনুশীলন করা হয়নি আমদানীকৃত পণ্যের মধ্যে বাংলাদেশ আসলে কোন পণ্য উৎপাদন করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে। সময় এসেছে কৃষি ক্ষেত্রে বড় রকম অনুশীলন করার—একদিকে উৎপাদনের, আরেকদিকে কৃষি প্রক্রিয়াকরণের। তা না হলে মানুষের শহরমুখী চাপ যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনীতির ওপর আমদানিজনিত নির্ভরতার প্রভাবও বাড়তেই থাকবে। এ ধরনের নির্ভরতা মাঝেমধ্যেই বড় ধরনের বিপাকে ফেলে। যেমন সাম্প্রতিককালে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে দুর্বিপাক লক্ষ করা গেছে। কৌশলগত ১৫-২০টি কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব দরকার।

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৩৭৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশী বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। এর মধ্যে শ্রমিক আছেন প্রায় পাঁচ লাখ। এদের মধ্যে মার্চের প্রথম ২০ দিনেই এসেছেন ২ লাখ ৯৩ হাজার। ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অনেক প্রতিষ্ঠান কম জনবল নিয়ে কাজ চালাতে চাইবে। প্রবাসীদের চাকরির ক্ষেত্রে বিপ্রতীপ প্রভাব পড়তে পারে। নিঃসন্দেহে প্রবাসী আয় হ্রাস গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এ বিষয়টিও সরকারকে বিবেচনা করে আগাম পরিকল্পনা শুরু করা দরকার।

বি-শিল্পায়ন ও এককেন্দ্রিকতা থেকে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি
অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়েনি; বরং এখানে বি-শিল্পায়ন ঘটেছে। বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। কীভাবে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়বে তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। কীভাবে রফতানির বহুমুখীকরণ হবে। তার চেয়ে বড় বিষয়, উৎপাদন নেটওয়ার্ক কীভাবে তৈরি করা হবে। টেকসই রূপান্তর তখনই ঘটবে, যখন উৎপাদনশীল প্রক্রিয়া বহুমুখীকরণ করে আন্তর্জাতিক উৎপাদন নেটওয়ার্কে অংশীভূত হবে। উৎপাদন নেটওয়ার্কের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তি না ঘটলে এ দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। এমনই ধাক্কার সম্মুখীন পোশাক শিল্প।

উৎপাদন খাতে দূরদর্শী পরিকল্পনা নেই। রফতানি বহুমুখীকরণের বিষয়টি বহু চর্চিত হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। রফতানির বহুমুখীকরণ করলেই হবে না, উৎপাদনের বহুমুখীকরণ করতে হবে এবং উৎপাদন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে হবে। সেক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানো সবচেয়ে জরুরি। রফতানিমুখী কৌশল হওয়ায় অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানো ও অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য পণ্য তৈরি নীতি কাঠামোয় আজতক অগ্রাধিকার পায়নি। এখন জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণের সময় এসেছে। তা না হলে দেশ বি-শিল্পায়নের ঘেরাটোপে পড়ে থাকবে। বর্তমান করোনাক্রান্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নিজস্ব সক্ষমতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উৎপাদন নেটওয়ার্কে অংশীদার হতে হবে। এটি শুধু দেশভিত্তিক নয়, বরং দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্তি। আগে করা হয়নি, এখন অবশ্যই করতে হবে।

বি-শিল্পায়ন রুখতে তিনটা বিষয়ে নজর দিতে হবে। কাঁচামাল বা প্রাথমিক, মধ্যবর্তী ও পূর্ণাঙ্গ পণ্য উৎপাদন করতে হবে। তা করতে হলে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া ঢেলে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়াতে হবে। এটি না বাড়লে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়বে না। সামনের দিকে চলা বন্ধুর হবে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দুটো বড় বাজার তথা ভারত ও চীনকে অন্যতম প্রধান রফতানি গন্তব্যে পরিণত করতে হবে। ওই বাজারদ্বয়ের চাহিদা গভীরভাবে অনুশীলন করে কৌশল বানাতে হবে।

তিনটি লক্ষ্য বা মিশনভিত্তিক—বৈচিত্র্যকরণ, সবুজ শিল্পায়ন ও দেশব্যাপী গ্রামীণ অর্থনীতি উজ্জীবনী সমন্বিত শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন—ইকুইটি ম্যাচিং তহবিল গঠন করা যেতে পারে। ক্ষুদ্র ও মধ্যম এবং নতুন উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য প্রাপ্য। বড় উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান, পণ্য বৈচিত্র্য, মূল্য সংযোজন, সবুজায়ন, বিকল্প রফতানি সৃষ্টি ইত্যাদি শক্ত শর্ত আরোপ করা দরকার। প্রত্যেক ধাপের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিশ্চিত করে পরবর্তী সহায়তা দিতে হবে। এতে ঋণখেলাপি ও রুগ্ণ শিল্প-কারখানা নিয়ে আগের অভিজ্ঞতা এড়ানো সম্ভব হবে। গ্রামীণ অর্থনীতি উজ্জীবনী তহবিল থেকে কারখানা ও উৎপাদন কেন্দ্রগুলো প্রধান মহাসড়ক ও নদী-তীরবর্তী স্থানে স্থাপন করলে শিল্পায়নের জন্য জরুরি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সহজলভ্য হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে শিল্পায়ন গুটিকতক নগরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশব্যাপী সুষম বিস্তৃত হবে। প্রতিটি অঞ্চলে ‘বিকাশ কেন্দ্র’ বা গ্রোথ সেন্টার ও এলাকাভিত্তিক বিশেষ ধরনের শিল্পও গড়ে উঠবে। এছাড়া পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ, কাঁচামাল সংগ্রহ ও জোগান সহজতর হবে। শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় যুগান্তকারী প্রভাব পড়বে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা ও ভর্তুকি প্রদান তথা অনুদান, কর অবকাশ, কর অব্যাহতি ফলাফল-লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হতে হবে। আজতক সহায়তার মূল সুবিধাভোগী গোষ্ঠীতন্ত্র। প্রদানকৃত সহায়তা অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উত্কর্ষ সাধনে ব্যবহার না হয়ে পাচার হচ্ছে।

সামুদ্রিক-জলজ সম্পদ ব্যবহার
সামুদ্রিক সম্পদ ও জলজ সম্পদ অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। বঙ্গোপসাগরের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। তথাকথিত ‘নীল অর্থনীতি’র কথামালা থাকলেও সম্পদ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেই। গভীর সমুদ্রে যাওয়ার সক্ষমতা নেই। এ সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব যদি প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারকে একদিকে খাতগুলো নিরূপণ করতে হবে, অন্যদিকে প্রণোদনা কাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে।

উন্নয়নের অতীতমুখী বনাম সম্মুখমুখী মডেল সক্রিয় নাগরিকতা
বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষী। তারা মধ্যম আয়ের স্তর থেকে উন্নত পর্যায়ে যেতে চায়। স্বাধীনতার ৫০ বছর হতে চলেছে। জীবনযাত্রায়, জীবনমানে বড় রকমের গুণগত পরিবর্তন ঘটেনি। যেকোনো উন্নতির মাপকাঠি হচ্ছে সাধারণ মানুষ কী অবস্থায় আছে। নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বয়স্করা কেমন আছে। জীবনযাত্রার পরিবর্তন তখনই সম্ভব যদি রূপান্তরকারী পথ তৈরি করা যায়। আগামীর কথা চিন্তা করে এটি করতে হবে। যদি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তাহলে তা অতীতমুখী, সম্মুখমুখী নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক উৎপাদনের নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্তিতে একটি গ্রিন নিউ ডিল দরকার হবে।

উল্লেখ করা দরকার, যেকোনো দেশের অগ্রগতির অপরিহার্য শর্ত সক্রিয় নাগরিকত্ব। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের দায়িত্বশীল সম্পর্ক। নাগরিক অধিকার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ। পৃথিবীর উন্নয়নের ইতিহাস বলে, উন্নয়ন শুধু রাষ্ট্র বা বাজারের বা পুঁজির বিষয় নয়। মৌল বিষয় হলো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক দুটোই রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা না বাড়লে জনগণ উন্নয়নের প্রকৃত সুফলভোগী হবে না। দলীয় বিবেচনায় গুটিকয়েক মানুষ উপকৃত হবে। তার মানে একটি নতুন ধরনের রাষ্ট্রনৈতিক চুক্তি ও কাঠামো বিনির্মাণ করতে হবে।

স্থানীয় সরকারের ওপর গুরুত্বারোপ এবং তা যথেষ্ট শক্তিশালী করা জরুরি। জনগণের জন্য সত্যিকার গণতন্ত্র নিশ্চিত করার উপলব্ধিও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকারকে যথাযথ মূলধন, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে হবে, যাতে স্থানীয় অর্থনীতি গড়ে উঠতে পারে।

আশার কথা হলো, শারীরিক দূরত্বের মধ্যে পরিবর্তনও লক্ষ করা যায়। পারিবারিক পর্যায়ে এক ধরনের সামাজিক সংহতি বেড়েছে। পরিবারের সদস্যরা একে অন্যের খবর নিচ্ছেন। আরো সুখবর, পুরুষতান্ত্রিক এ কাঠামোর মধ্যে কিছু পুরুষ নিজেদের গৃহস্থালি কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। স্থায়ী বজায়মান পরিবর্তন তখনই হবে যখন রাষ্ট্র, সমাজ, কর্মক্ষেত্রে ও পারিবারিক পর্যায়ে রীতিনীতি-আচার-আচরণ-মূল্যবোধগত পরিবর্তন ঘটে।

নতুন বিশ্বব্যবস্থার পালাবদলের প্রস্তুতি
কভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি সবকিছুর মধ্যে এক ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। আমূল পরিবর্তন না করলে অর্থনীতি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থবির হয়ে যাবে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের আঘাত আসবে। এ পরিবর্তন কীভাবে ঘটবে তা নির্ভর করবে সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনগণের সম্পর্কের ওপর। তবে নিঃসন্দেহে এ সম্পর্ককে পরিবর্তন করতে হলে পুরোমাত্রায় রাজনৈতিক সক্ষমতা ও দক্ষতা দেখাতে হবে। এক্ষেত্রে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিও ঢেলে সাজাতে হবে। পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থা থেকে কীভাবে দেশ লাভবান হবে, তা অবশ্যই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার ওপর নির্ভর করবে। এ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তখনই কাজ করে যখন জনগণের সঙ্গে রাজনীতির পারস্পরিক জবাবদিহিমূলক মিথস্ক্রিয়ার সম্পর্ক রচিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.